ফেডের সুদহার কমানোর সম্ভাবনা

আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়েছে স্বর্ণের দাম

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) বৈঠক চলতি সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) বৈঠক চলতি সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ বৈঠকে সুদহার কমানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। এ সম্ভাবনায় গতকাল স্বর্ণের দাম কিছুটা বেড়েছে। এছাড়া স্বর্ণ খাতের বিনিয়োগকারীরা ২০২৫ সালে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদহার কমানোর ওপরও নজর রাখছেন। খবর রয়টার্স।

স্পট মার্কেটে গতকাল স্বর্ণের দাম বেড়েছে দশমিক ৪ শতাংশ। প্রতি আউন্সের মূল্য পৌঁছেছে ২ হাজার ৬৫৮ ডলার ৬৪ সেন্টে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটে মূল্যবান ধাতুটির দাম বেড়ে ২ হাজার ৬৭৭ ডলার ৭০ সেন্টে পৌঁছেছে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক অর্থনৈতিক বাজারের অনলাইন ট্রেডিং সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান আইজি। এ প্রতিষ্ঠানের মার্কেট স্ট্র্যাটেজিস্ট ইয়েপ জুন রং বলেন, ‘চলতি সপ্তাহে স্বর্ণের দামে ফেডের সুদহার কমানোর সম্ভাবনার বিষয়টি প্রভাব ফেলবে।’

প্রসঙ্গত, বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, ফেড ১৭-১৮ ডিসেম্বরের বৈঠকে দশমিক ২৫ শতাংশীয় পয়েন্ট সুদহার কমাতে পারে। তবে সিএমইর ফেডওয়াচ টুল অনুযায়ী, খাতসংশ্লিষ্টরা জানুয়ারিতে সুদহার কমানোর সম্ভাবনা মাত্র ১৮ শতাংশ মূল্যায়ন করেছেন।

বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান সিটিগ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, মার্কিন ও বৈশ্বিক অর্থনীতি স্থিতিশীল হওয়ার আগ পর্যন্ত স্বর্ণ ও রুপার চাহিদা ঊর্ধ্বমুখী থাকবে। আগামী বছরের চতুর্থ প্রান্তিক ও ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিক পর্যন্ত স্বর্ণ ও রুপার দাম সর্বোচ্চে পৌঁছতে পারে।

আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ডলারের হিসাবে ২৮ শতাংশের বেশি বেড়েছে। গত বছরের গড়ের তুলনায় মূল্যবান ধাতুটির বাজারদর বেড়েছে ২২ শতাংশ। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল (ডব্লিউজিসি) জানায়, চলতি বছর বিশেষ করে ওভার-দ্য-কাউন্টার লেনদেনের মাধ্যমে স্বর্ণ খাতে বিনিয়োগ চাহিদা বেড়েছে, যা দাম বাড়ায় ভূমিকা রেখেছে। চাহিদা বৃদ্ধির পেছনে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি ও বিভিন্ন দেশের অর্থনৈতিক অস্থিরতা।

ডব্লিউজিসির ‘গোল্ড আউটলুক ২০২৫’ শীর্ষক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছর অন্যান্য দেশের মুদ্রায়ও স্বর্ণের দাম ছিল সমানভাবে শক্তিশালী। মূল্যবান ধাতুটির দাম এ সময়ে অন্তত ৪০ বার রেকর্ড সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছে। এছাড়া চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে স্বর্ণের চাহিদা ১০ হাজার কোটি ডলার মূল্য অতিক্রম করেছে।

এদিকে স্পট মার্কেটে গতকাল রুপার দাম দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ৩০ ডলার ৬৬ সেন্টে পৌঁছেছে। এদিন প্লাটিনামের বাজারদর বেড়েছে দশমিক ১ শতাংশ। প্রতি আউন্সের মূল্য স্থির হয়েছে ৯২৫ ডলার ৭৫ সেন্টে। তবে গতকাল প্যালাডিয়ামের দাম আউন্সপ্রতি ৯৫২ ডলার ৩৯ সেন্টে স্থিতিশীল ছিল।

আরও